আইপিভিশনে ২ বছর!

কিছুদিন আগেই মনে হয় লিখাটা লিখলাম “আইপিভিশনে এক বছর”  আর এখনই ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আবার “আইপিভিশনে ২ বছর!” লিখতে শুরু করলাম মনে হচ্ছে। সময় বেশ দ্রুত চলে যাচ্ছে।

বেশ ক্লান্ত আমি, তারপরেও কিছু না কিছু তো লিখতেই হয়। আনন্দ-বেদনা সবকিছু নিয়েই কেটেছে পরের বছরটি। এটাও আমার পরিবার। ঘুমের বাইরে নিজের হাতে যতটুকু সময় থাকে তার বড় অংশটা আমি এখানেই কাটাই। ধন্যবাদ আইপিভিশন-কে, তাদের জন্য এখনও নামের পাশে ডেসিগনেশনে  লিখতে পারি ‘সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার’, তার চেয়ে বেশী ধন্যবাদ আমার সহকর্মীদের। এই রকম সহকর্মী না থাকলে আসলে এভাবে দুই বছর এক জায়গায় কাজ করা সম্ভব হতোনা। ব্যাক্তিগত সমস্যা, কাজ জনিত সমস্যা থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে সহযোগিতা পেয়েছি সবার কাছে, সাথে পেয়েছি অনেক অনেক অনুপ্রেরণা। আনন্দের মুহূর্ত অনেক, কষ্টের মুহূর্তও কম নয়। সমবয়সী বেশীরভাগই অন্য কোথাও চলে গিয়েছে, কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আগে অনেকটাই মনে হতো ইউনিভার্সিটিতে আছি, এখন অবশ্য বুড়োদের মাঝে নিজেকে অনেক ছোট টাইপ মনে হয় মাঝে মাঝে। অনেক অনুভব করি আমার সমবয়সী সহকর্মীদের। সাথে সাথে তাদেরও (সিনিয়র) অনুভব করি যারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন আজকের এই জায়গায় আসতে, কিন্তু আজ আমার  সাথে এক কোম্পানীতে নেই।

দেড় শতাধিকেরও বেশী ইঞ্জিনিয়ার একসাথে বসে কাজ করা, একই ফ্লোরে! ব্যাপারটা অবশ্যই ভয়ংকর সুন্দর। এইচআর থেকে শুরু করে দাড়োয়ান পর্যন্ত সবার চেহারায়ই হাসি দেখি সবসময়। ভালো লাগে অনেক। সবাই সবাইকে চিনে রাখার চেষ্টা করা, খোজ খবর রাখা ব্যাপারগুলো আসলেই বেশ অন্যরকম। আসলে ছোট ছোট অনেকগুলো ভালো লাগা সাথে না থাকলে হয়তো এতোদিন এক জায়গায় টিকেও থাকতে পারতাম না এভাবে।

আজ নিজের একটা প্রোফাইল আছে, অনেক কিছুই লিখে রেখেছি ওখানে। এইগুলোতে এই দুই বছরের অভিজ্ঞতার অনেক অবদান রয়েছে। অনেক কিছুর নাম লিখি, আলোচনা করি গল্পে গল্পে, এখানে না আসলে হয়তো ঐগুলো জানা হতোনা। যখন চা-এর কাপে চুমুক দিতে দিতে টং দোকানে টেকনোলজি নিয়ে ঝড় তুলে ফেলি, তখন অনেকেই তাকিয়ে দেখে, পাগল ভাবে। এখানে না আসলে হয়তো আমিও কোন টং দোকানে দাঁড়িয়ে থেকে এইসব শুনে তাদের পাগল বলেই বাসায় চলে আসতাম।

3 thoughts on “আইপিভিশনে ২ বছর!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *