
সময়ের মত সময় চলে যায়, পেছনে তাকিয়ে দেখি অনেকটা পথ হাঁটা হয়ে গেছে ।
২০১৬ তে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে ক্লাস নেয়া শুরু করি। সেমিস্টার শেষে অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা লেখাও লিখেছিলাম- ‘লেকচারার হিসেবে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে’ । যাইহোক, ‘শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম ছোটবেলা থেকে, আমার জীবনের একটাই স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবো’, বিষয়গুলো আমার ক্ষেত্রে এমন নয়। কিছু শিক্ষক আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে একটি পর্যায়ে উঠিয়ে এক হাত বাড়ালেন, আমি সেহাত ধরে তাদের কাছে চলে গেলাম। আজ দুই বছর শেষ হয়ে গেলো। অন্যরকম এক অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু, সেটা আগের লেখায় লিখেছি, পুনরায় আর লিখতে চাই না। মূলত অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে লিখতে চাই।
১. শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের শ্রদ্ধা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। সবাই ভাবতে পারে, এতো ইয়াং শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে নেয়। আসল বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের শ্রদ্ধা-সম্মানের কোন কমতিই থাকেনা, বরং ইয়াং শিক্ষক পেলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশী আগ্রহের সহিত পাঠগ্রহনে মনোযোগী হয়।
২. লেকচার দেয়া তূলনামূলক সহজ কাজ (ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে গ্রেনেড বোমার মত প্রশ্নগুলোর কথা বাদ দিলে), কিন্তু প্রশ্ন করা, খাতা ইভালুয়েশন করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। নিজে ছাত্র থাকাকালীন কতবার মনে হয়েছে, এ আর এমন কি কাজ। কেন স্যাররা এতো দেরী করে নম্বর দেয়, কেন নম্বরের যোগে ভূল করে ইত্যাদি। এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি সেগুলো।
৩. আনন্দময় মূহুর্ত ঘটে তখন, যখন আপনার শেখানো কিছু আপনার ছাত্রছাত্রী ভালোভাবে রপ্ত করে তার বহিঃপ্রকাশ করতে পারে। দুঃখের মূহুর্ত, যখন কেউ ব্যার্থ হয়।
৪. কঠিন মূহুর্তঃ শিক্ষার্থীদের কোন টপিক বুঝাতে পারার চেয়ে কঠিন মূহুর্ত হচ্ছে তারা ঠিকমত বুঝেছে কিনা সেটা বুঝার চেষ্টা করা। কারণ তারা হ্যা তে হ্যা মিলায় যেমন, না তে না মিলায় তেমন।
প্রায় ৩৫০+ শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছি এই দুই বছরে। শেখানোর চেষ্টা করেছি অনেক কিছু, বুঝিয়েছিও অনেক কিছু। অনেকেই ভালো করছে, দেখে ভালো লাগে। একজন শিক্ষকের কাছে সফলতাটা এখানেই। আর নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার আরেকটা অন্যরকম আনন্দ আছে, সর্বদা মনের মধ্যে একটা অন্যরকম সেটিসফেকশন কাজ করে যায়।
প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি ডিপার্টমেন্টের স্টাফদের কাছ থেকে। শিক্ষকদের অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। আমিও উনাদের মাঝেরই একজন, এভাবেই রেখেছেন সবাই আমাকে। কিভাবে সময় কেটে গেছে টেরও পাইনি।
শিক্ষার্থীরা তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করেছেন কখনও টিচার্স ইভালুয়েশনে আবার কখনও সরাসরি ক্লাসেই নানা কথা মনোযোগ সহকারে রেস্পন্স করে। আর আমার মেন্টর, ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য শিক্ষকের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ পেয়েছি এই ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশেরই নানা সুতো ধরে।
