খন্ডকালীণ শিক্ষকতায় ৪ বছর! আনোয়ার পারভেজ থেকে ‘AP’

২০১৮ বার্ষিক বনভোজন (সিএসই)-এ, শাহরিয়ার স্যার এবং তমাল স্যারের সাথে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ

স্মৃতি হাতড়ে দেখতে পাই, শিখা-শেখানোর চারটি বছর কেটে গেছে

দেখতে দেখতেই যেন সময় চলে যায়। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে আমি ক্লাস নিচ্ছি, আজ ৪ বছর হয়ে গেলো! ১২ সেমিস্টার টানা ক্লাস নিয়েছি! সময় কত দ্রুত চলে যায়। ফল-২০১৬, এই তো সেদিন মনে হয়, যখন আমি ক্লাস নেয়া শুরু করলাম সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে। ইঞ্জিনিয়ারিং ইথিক্স দিয়ে শুরু করে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা স্ট্রাকচার, ডেটাবেজ ডিজাইন, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ (সি), কতগুলো সাবজেক্ট পড়ানো হয়ে গেছে এই ১২ সেমিস্টারে! যেদিন আমি খন্ডকালীণ শিক্ষক হিসেবে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে পা রেখে ছিলাম, সেদিন যারা ভর্তি হয়ে প্রথম ক্লাসে এসেছিলো, আজ তারা গ্র্যাজুয়েট!

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা নিয়ে আমার আরও কয়েকটি লেখাঃ

কখনও চিন্তাও করিনি টানা ১২ সেমিস্টার এভাবে ক্লাস নিতে পারবো। আমি একজন ফুলটাইম সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি আমার শেখা বিষয়বস্তু ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার ইচ্ছা অটুট থাকায় একমাত্র এটা সম্ভব হয়েছে। আরেকটা কারণে সম্ভব হয়েছে, সেটা হলো সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি নিজে। শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, স্টাফ, ছাত্রছাত্রী সবার ভালোবাসা আরও অটুট বন্ধনে আটকে রেখেছিলো আমায়, এই চারটি বছর। আমার এখনও মনে পরে, চার বছর আগে তমাল স্যারের কাছে প্রশ্নের টেমপ্লেট খুজছিলাম ল্যাটেকের, আমি আজও সেই টেমপ্লেট দিয়েই প্রশ্ন করি ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

শাহরিয়ার মঞ্জুর, চেয়ারম্যান, সিএসই, এসইইউ

শাহরিয়ার স্যারের (চেয়ারম্যান, সিএসই, এসইইউ) সাথে আমার পুরো সেমিস্টারে সর্বোচ্চ এক থেকে দুইবার দেখা হতো, তাও কোন না কোন স্বাক্ষর বিষয়ক ব্যাপারে। স্যারের সামনে যাওয়ার পর্যাপ্ত কারণ আমি যোগাড় করতে না পারার কারণে স্যারের সামনে যাওয়ার সুযোগ হতো আরও কম। তমাল স্যার সহ বাকি স্যার ম্যাডামদের রুমে উঁকিঝুঁকি, গল্প-আড্ডা তো হর হামেসাই হতো। বিশেষ করে মাহবুব স্যার, রাজন স্যার, রাকিব স্যার, আশিক স্যারদের রুমে বিনা অনুমতিতেই চলে গিয়েছি কত। জলি ম্যাডামের হাতের বানানো কফি খাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনেও ছিল বেশ আনন্দ। কো-অর্ডিনেটরদের কথা যদি বলি, আমি যখন ক্লাস নেয়া শুরু করি তখন তমাল স্যার কো-অর্ডিনেটর ছিলেন, তারপর রাজন স্যার, সিফাত স্যার এবং আশরাফ স্যারের কাছ থেকে আমি অনেক অনেক সহযোগিতা পেয়েছি, দিন-রাত সব সময় জ্বালিয়েছি উনাদের সবাইকে।

রাজন স্যারের সাথে ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ -এর সেমিনারে তোলা ছবি

উনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসলে শেষ করা যাবেনা। প্রোগ্রাম অফিসের সাঈদ ভাই, সুইটি ম্যাডাম উনারাও প্রচুর সহযোগিতা করেছেন, সাথে অফিস স্টাফ আলী ভাই, জাহিদ ভাই, ইয়াসিন ভাই সহ ল্যাব এসিস্ট্যান্টরা। আর সবচাইতে বেশী যারা আমায় সহযোগিতা করেছে, তারা হচ্ছে আমার ছাত্রছাত্রীরা। ক্লাস সকাল সাড়ে আট টায় হোক কিংবা শুক্রবার দুপুর আড়াইটায়, আশি-নব্বই শতাংশ ছাত্রছাত্রী আমার ক্লাসে উপস্থিত থাকতো এবং এখনও থাকে, সেই ২০১৬ সাল থেকে।

প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করে ইন্টারেক্টিভ ক্লাসরুম তৈরী করে রাখতে সহযোগিতা করেছে আমাকে। আর ভালোবাসার উদাহরণস্বরূপ বেশ কয়েক সেমিস্টারে আমাকে এতো বেশী বেশী নম্বর দিয়েছে টিচিং ইভালুয়েশনে, যে পুরো সিএসই ডিপার্ট্মেন্টের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চেয়ে আমাকে বেশী নম্বর দিয়েছে। যেখানে, পুরো ডিপার্ট্মেন্টে আমি সবচেয়ে ছোট্ট মানুষ। যদিও বিষয়টি আমার একদমই জানা ছিলোনা, ভালোবাসা বহিঃপ্রকাশে শাহরিয়ার স্যার ও তমাল স্যারের ভিন্ন সময়ে ফেসবুক কমেন্ট ও ক্যাপশনের দ্বারা আমি তা অবগত হই।

সেমিস্টার শেষ যখন কোর্স ফাইল বানাই আমি

ছাত্রছাত্রীদের এতো এতো ভালোবাসা আমাকে শত ব্যাস্ততার মাঝেও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিতে আসার জন্য আগ্রহী করে রাখে। এই বছর করোনাকালীন সময়েও ছাত্রছাত্রীরা যেভাবে ক্লাস নেয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছে, তা আসলে ব্যাখা করার মতো নয়। এ নিয়ে লেখা আমার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরছি – “কোভিড-১৯ এর সংক্রমন কমাতে বন্ধ হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, পরে মার্চ মাসেই সিদ্ধান্ত এলো অনলাইনে ক্লাস হবে। বিষয়টা অনেকের কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হলেও অনেকের কাছে ঠিক তার উল্টো। যদিও ব্যাতিক্রম আমাদের সবারই ভালো লাগে, কিন্তু ব্যাতিক্রম কাজটা অন্য কেউ করে দিলে দেখতে ভালো লাগে, নিজে করতে গেলে ভালো নাও লাগতে পারে। আসলে অফলাইন আর অনলাইন ক্লাসের এক্সপেরিয়েন্স ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। সবই ঠিক আছে কিন্তু বিপত্তি বাধলো অনলাইন ক্লাসের ‘অনলাইন’ বিষয়টা নিয়েই। ইন্টারনেট, নেটওয়ার্ক, ডিভাইস, ইলেক্ট্রিসিটি সবগুলোতেই সমস্যা থাকার সম্ভাবনা আছে ছাত্রছাত্রীদের, তাহলে ক্লাস কিভাবে নিবো! অফলাইন ক্লাস হলে তো ল্যাবে গিয়ে সরাসরি পড়িয়ে আসা যায়, কিন্তু এখন?

অনলাইন ক্লাস

ইউনিভার্সিটি থেকে বেশ কিছু সাজেশন এলো, এখন সেগুলো নিয়ে চিন্তা করে কোর্স লেকচার কিভাবে ডেলিভার করবো সেটা ভাবার পালা। এমন ভাবে পড়াতে হবে, যেন উপরের সবগুলো মৌলিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রীরা লেকচার কভার করতে পারে। তাই চিন্তা করলাম পড়ানোর কন্টেন্টটা আলাদা ভিডিও লেকচার হিসেবে বানাবো, সেখানে কাগজে কলমে কিভাবে পড়া যাবে কম্পিউটার ব্যাবহার না করে সেই মেথড থাকবে, পাশাপাশি কম্পিউটারেও কিভাবে পড়া যায় সেটাও থাকবে। ভিডিও লেকচারটি রাখবো ইউটিউবে, তাহলে লো রেজুলেশন এবং লো ব্যান্ডউইথেও দেখা যাবে। আর ভিডিওটি ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই আপলোড করে দিবো। ছাত্রছাত্রীরা চাইলে আগেই পুরো পড়াটি দেখে নিতে পারবে। এরপর শিডিউল ক্লাস টাইমে লাইভে থাকবো, তাও ইউটিউবে (উপরোক্ত কারণে) এবং যে যেই অংশতে সমস্যা মনে করে অথবা পুনরায় বুঝিয়ে দিবো। লাইভের কমেন্টেবক্সে, শর্ট কমেন্টেই সকল সমস্যা ছাত্রছাত্রীরা আমার কাছে নিয়ে আসতে পারবে।

অনলাইন ক্লাস প্রিপারেশন

সবকিছুই ভাবলাম কিন্তু বাস্তবে রূপ দিতে হবে তো! ভিডিও লেকচার বানাবো চিন্তা করলাম কিন্তু কিভাবে? একটা ওয়াকম থাকলে ভালো হতো, অথবা হোয়াইট বোর্ড, ঐদিকে ওয়েব ক্যাম নাই একটাও, দুইটা ক্যাম আছে ১২ বছর আগের ওগুলো এখন আর সাপোর্ট করেনা। একটা ল্যাপটপের ওয়েব ক্যাম আছে বাসায়, ভাবলাম এটা দিয়েই করবো ভিডিও লেকচার। ওয়েব ক্যামের কারণ, কে কথা বলতেছে তাকে না দেখলে লেকচার অনেক সময় ইন্টারেস্টিং লাগেনা। ল্যাপটপের স্ক্রিণ রেকর্ড করবো ভাবলাম Kazam দিয়ে। মাইক্রোফোন নাই, তাই ইয়ারফোনের মাইক-ই ভরসা। যেহেতু ওয়াকম অথবা হোয়াইট বোর্ড নাই তাই ভাবলাম স্ক্রীণ স্কেচিং কোন টুল ব্যাবহার করবো, তাই ব্যাবহার করলাম Pylote। ওয়েব ক্যাম আবার স্ক্রিনে দেখানোর জন্য ব্যাবহার করলাম guvcview। এভাবে বহু চরাই-উতরাই পার হয়ে ভিডিও লেকচারের রেকর্ডিং শুরু হলো, কখনো রেকর্ড করে দেখি সাউন্ড ঠিক আসে নাই, আরও নানা ঝামেলা। রেকর্ডিং-এর পরে এবার আসলো, মাল্টিপল ক্লিপ মার্জ এবং ট্রিম করা নিয়ে বিপত্তি। পরে তাও সমাধান করলাম Adobe Premier Pro দিয়ে। ভিডিও লেকচার বানানো হলো, সেগুলো ইউটিউবে আপলোডও দিলাম। একটা অংশ চুকে গেলো, এবার শিডিউলড ক্লাসে লাইভে থাকতে হবে ইউটিউবে একরই রকম সেটাপ নিয়ে৷ একই সেটাপ বলতে, লাইভে আমার এই স্ক্রিনও দেখতে হবে, স্কেচও করতে পারতে হবে, ওয়েব ক্যামে আমাকে দেখাও যেতে হবে ইত্যাদি। তাই OBS (Open Broadcaster Software) ব্যাবহার করলাম স্ট্রীমের জন্য। এভাবেই চললো এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ।

অনলাইন ক্লাস

আমি কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগেই পড়াই এবং এবার কোর্সও ছিলো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের থিউরি। তাও আমাকে কতো কিছু ভাবতে হয়েছে। আমি শুধু অন্য শিক্ষকদের কথা ভেবেছি প্রতি মুহূর্ত। তাদের না জানি কি অবস্থা! অবশ্য আমাদের পুরো কষ্টটাই ছাত্রছাত্রীদের জন্য, তাদের যেন কাজে আসে। এতো কঠিন পরিস্থিতেও ছাত্রছাত্রীরা লেকচার কভার করেছে, এসাইনমেন্ট দিয়েছে, তাদের জন্য এইটুকু করাই যায়। যেহেতু আমি ফুল টাইম সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং পার্ট-টাইম লেকচারার তাই আমাকে এতো কিছু করার জন্য সময় বের করতে ভালোই বেগ পেতে হয়েছে। সময়ও গিয়েছে বেশ ভালোই।”

মাহবুব স্যারের সাথে আইসিপিসি ডিউটিতে

সবার এতো এতো সহযোগিতা এবং ভালোবাসা না থাকলে এতোটা পথ পেরিয়ে আসা সম্ভব হতোনা। মাহবুব স্যারকে আমি সবসময় বড় ভাই হিসেবে পেয়েছি, আড্ডা হোক সেটা টেকনোলজি কিংবা এমনি, খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাঘুরি সব কিছুতেই ভাইকে পেয়েছি বন্ধুর মতো। নিজের স্কুল বান্ধুবী কিমিয়াকে পেয়েছি সহকর্মী হিসেবে। একে তো আমি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছি, তার উপর এখানেই চার বছর শিক্ষকতা, সব মিলিয়ে পুরো সময়টাই দারুণ কেটেছে।

সব মিলিয়ে বলতে চাই, ফুলটাইম চাকুরী করে সাউথইস্টে পড়ানো আবার পাশাপাশি মাস্টার্স করা মোটেও সহজ কাজ ছিলোনা আমার জন্য। তবে ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় মনোবল এবং সবার সহযোগিতা আমাকে এতোটা পথ এগিয়ে নিয়ে এসেছে।

অনেক অনেক ভালোবাসা সবার জন্য।

সাইক্লিং পরামর্শ

⚠️⚠️⚠️🚵‍♂️🚵‍♂️🚵‍♂️ ⚠️⚠️⚠️
 
প্রচুর মানুষ এখন প্রয়োজনের তাগিদে হোক অথবা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের সাথে সাইক্লিং-এ যুক্ত হচ্ছেন। অনেকে একদমই নতুন, কেউ কেউ তো এই মাত্র সাইকেল চালানো শিখেছেন, আবার কেউ আছেন ১০ থেকে ১৫ বছর পরে এসে আবার সাইক্লিং শুরু করছেন। যদি এই মানুষটি আপনি নিজে হোন অথবা আপনার পরিচিত কেউ এমন হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদের কাছে আমার কিছু অনুরোধঃ
 
১। দয়া করে নিজ দায়িত্বে একটা হেলমেট কিনে নিবেন । হেলমেট কয়েকশত টাকা দিয়ে পাওয়া যায়, আবার কয়েক হাজার টাকারও হেলমেট আছে, ব্র্যান্ডের হেলমেটও আছে আবার নন ব্র্যান্ডেরও। মূলত কোয়ালিটির উপর ভিত্তি করে দামের তারতম্য হয়। যেমন ধরুন, একদম নরমাল কোয়ালিটির একটি হেলমেটে লো-স্পীড (ধরুন ৮-১০ কিলোঃ / ঘণ্টা)-এ যদি আপনার মাথা কোথাও ইমপ্যাক্ট হয়, তাতে বেঁচে যাবেন, কিন্তু এর চেয়ে বেশী গতি যদি হয় তাহলে হেলমেটটি হয়তো আপনাকে রক্ষা করতে পারবেনা। প্রয়োজন অনুযায়ী কেমন হেলমেট কিনবেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করবে।
 
২। যারা অফিস অথবা ব্যাক্তিগত কাজে সন্ধ্যার পরেও বাইরে সাইক্লিং করবেন, তারা দয়া করে ফ্রন্ট লাইট এবং টেইল লাইট কিনে নিবেন। দাম খুব বেশী হয়না, তিন থেকে পাঁচশত টাকার মধ্যে কাজ হয়ে যাবে, আবার কেউ চাইলে আরও ভালো কোয়ালিটির আরও দামি লাইট কিনতে পারেন। ফ্রন্ট লাইট মূলত রাস্তায় থাকা কোন গর্ত, ভাঙ্গা জায়গা, ইট পাথর এবং অন্যান্য ক্ষতির হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে। আর টেইল লাইট মূলত পিছন থেকে আসা যানবাহনের জন্য। চেষ্টা করবেন টেইল লাইটটি একটু ডাউন এংগেল করে বসাতে, যেন পিছন থেকে আসা যানবাহনের চালকের চোখে সরাসরি না পরে। পিছন থেকে আসা কোন যানবাহন যেন অসতর্ক ভাবে আপনাকে ধাক্কা না দিতে পারে সে জন্য এই টেইল লাইট খুবই জরুরী।
 
৩। হ্যান্ড গ্লভস কিনে নিতে পারেন। সাইকেল থেকে অনেক সময় কোন কারণ ছাড়াই ব্যালেন্স হারিয়ে পরে যেতে পারেন, সেক্ষেত্রে হাতের তালু, আঙ্গুলে ব্যাথা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুই-তিন শত টাকাতেই কাজ হয়ে যাবে। আপনার সামর্থ্য থাকলে আরও দামী কিনতে পারেন।
 
৪। অবশ্যই ভালো মানের একটি লক কিনে নিবেন। কোন লকই আপনার সাইকেলকে শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারবেনা, তবুও যত ভালো লক ব্যাবহার করবেন চোরের কনফিডেন্স ততো কমবে, এবং চুরি হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। এসএস শিকল ৮মিমিঃ অথবা ১০মিমিঃ, সাথে মোবাজ তালা। এক হাজারে মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, যদি আপনার সাইকেলের দাম দশ হাজার টাকাও হয়ে থাকে এই এক হাজার টাকার লক সিস্টেমই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে আপনার পছন্দের সাইকেলটি চুরি হয়ে যাওয়া থেকে। দারোয়ানের অপর অন্ধ বিশ্বাস করে আসলে খুব বেশী একটা লাভ নেই।
 
৫। হর্ন কিনে নিতে পারেন। ব্যাস্ত শহরে হর্ণ অনেক উপকারী, যদিও এতো শব্দ দূষণের মাঝে আপনার হর্ণ মানুষ তেমন একটা কানে নিবেনা। তারপরেও হর্ণ উপকারী। হর্ন অনেকে আলাদাভাবে কিনে, আবার ফ্রন্ট লাইটের সাথে কম্বাইন্ড হর্নও পাওয়া যায়। কম্বাইন্ডটা তিন থেকে পাঁচশত টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।
 
৬। যারা শহরে অথবা ব্যাস্ত রাস্তায় সাইক্লিং করবেন, দয়া করে ডানে বামে প্রতিনিয়ত নজর রাখার চেষ্টা করবেন। হুট করে ডানে অথবা বামে চলে যাবেন না, হঠাৎ করে লেন পরিবর্তন করবেন না এবং রাস্তা পারাপারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন। সাইক্লিং-এ আমরা কিছু নির্দেশনা ব্যাবহার করি, সেগুলো আপনি গুগলে পেয়ে যাবেন। আর যদি জানা না থেকে থাকে, তাহলে ডানে যাওয়ার সময় ডান হাত এবং বামে যাওয়ার সময় বাম হাত দিয়ে পিছনের যানবাহনকে নির্দেশনা দিলেও চলবে।
 
৭। প্রতিদিন না পারলেও সপ্তাহে একদিন সাইকেলটি ভালো করে মুছে পরিষ্কার করে রাখুন এবং বৃষ্টিতে ভিজলে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে, চেইন ল্যুব দিয়ে রাখুন। চেইন ল্যুব একবার কিনে নিলে অনেকদিন যায়। দুই তিনশত টাকা নিতে পারে মাঝারি সাইজের বোতল।
 
৮। সন্ধ্যার পর সাইক্লিং-এ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। যেমনঃ ঢাকা এয়ারপোর্ট রোড দিয়ে সন্ধ্যার পর একা চলাচল না করাই উত্তম।
 
৯। শুষ্ক মৌসুমে, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এবং সম্ভব হলে প্রতিবার সাইক্লিং শেষে জামাকাপড় বদলে নিন। আর বর্ষা মৌসুমে সাথে জিপব্যাগ/রেইনকোট রাখার চেষ্টা করুন, এইগুলো আপনার মোবাইল-মানিব্যাগ, অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাঁচাতে সহযোগিতা করবে।
 
১০। যারা লম্বা রাস্তায় (প্রতিদিন অনেক দূর যাওয়া-আসা) সাইক্লিং করবেন, তারা মিনিপাম্পার (এক হাজার টাকার মধ্যেই) এবং প্যাচ কিট (টিউব লিক সারানোর জন্য) সাথে রাখতে পারেন। ভোগান্তি কমবে।
 
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সাইকেল কেনার সময় আমাদের হাতে এক্সেসরিজ কেনার টাকা থাকেনা হাতে, সেক্ষেত্রে একসাথে সব না কিনে আস্তে আস্তেও কিনে নিতে পারেন। তবে কোনটা কেন প্রয়োজন তা আপনারা এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা। আপনারা যারা একদম নতুন, তারও হয়তো উপরোক্ত বিষয়গুলো অনেকেই জানেন, আমি শুধু একবার মনে করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম। কোনকিছু ভুল লিখে থাকলে হয়তো শেখার সুযোগও পাবো আপনাদের কাছ থেকে, আর কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় যদি বাদ পরে থাকে তাও আপনাদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারবো।
সাইক্লিং কমিউনিটিতে যোগ দিতে চাইলে, নিম্নোক্ত গ্রুপে যোগ দিন-
সাইক্লিং সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা থেকে থাকলে, নিম্নোক্ত গ্রুপে প্রশ্ন করুন-
 
দ্রষ্টব্য-১ঃ করোনা মহামারীর এই সময়ে অনুগ্রহ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরতে থেকে বের হবেন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া থেকে বিরত থাকি।
 
দ্রষ্টব্য-২ঃ ছবির হেলমেটটি আমার উপহারে পাওয়া, তাই সঠিক দাম আমার জানা নেই। তবে দাম ২৫০০ টাকার আশেপাশে। Brand: CAIRBULL, Model: WYX-ZHCL11.
 
ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করবেন।
 
ধন্যবাদ।
 
// Happy Cycling ❤

জীবনের প্রথম বাইসাইকেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ

বিডিসাইক্লিস্টস স্বাধীনতা দিবস রাইড – ২০১৯

আজ ২৩ শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, গল্পটা শুরু হয়েছিলো যদিও অনেক আগে কিন্তু তিন বছর আগে তা নতুন মোড় নেয়। বিডিসাইক্লিস্টের হ্যাশট্যাগ চ্যালেঞ্জ -এ লেখা আমার গল্পটি হুবুহু তুলে ধরা হলো সবার জন্য-
চতুর্থ শ্রেণীতে থাকতেই সাইকেলের বেশ শখ ছিল আমার, যদিও আমি সাইকেল চালাইতে পারিনা। কিন্তু পরিবারের মোট আয় তখন সংসার অতিরিক্ত খরচ সাপোর্ট করতোনা। তাই বাবার কাছে অনেক অনুরোধ করেও একটি সাইকেল পেলাম না। ছোট মানুষ আমি, কেনো বাবা সাইকেল কিনে দিল না তা বুঝতে পারিনি তখন।
একই বছর, সারা বছরের সকল মেয়াদী পরীক্ষা মিলে যদি প্রথম হতে পারি তাহলে আমার মেঝো চাচা সাইকেল কিনে দিবেন বললেন। যখন ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট হাতে আসে তখন আমি দ্বিতীয় হয়েছি, প্রথম না হওয়ায় তাই সাইকেল আর ভাগ্যে জুটলোনা।
যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পরি তখন আবার মেঝো চাচা সাইকেল কিনে দিবার একটা সম্ভাবনা তৈরী হলো, কিন্তু উনার ব্যাবসা ভালো না চলায় সেবারও সাইকেল পেলাম না।
যখন অষ্টম শ্রেণীতে উঠলাম তখন আমার এক মামা আমার ছোট ভাইকে একটি সাইকেল কিনে দিলেন। সাইকেলটি আমার তুলনায় ছোট, চালাতে গেলে পায়ে হ্যান্ডেলবার লেগে যাওয়ার মতো ছোট। সেই সাইকেলেই ছাদে সাইকেল চালানো শেখা। ত্রিশ মিনিটের মতো সময় লেগেছিলো। সে বছরই খুব ভালো একজন বন্ধু হয় আমার স্কুলে (যে আজ আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড)। আমার বন্ধুর নাম রাফি। রাফির একটা সাইকেল ছিল। সেই সাইকেলেই তখন ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতাম। সাইকেল নিয়ে রাস্তায় উল্টে পরে গেলে রাফি আগে সাইকেল না দেখে খেয়াল করতো আমার কিছু হয়েছে কিনা। বেশ ভালো সময় ছিল। বেশ কিছু বাজে এক্সিডেন্টও করেছি। তারপর আমরা এসএসসি পাশ করার পরে আমাদের দুইজনের কারোরই আর সাইকেল চালানোর সুযোগ হয়নি। আর আমার নিজের জন্য একটি সাইকেলও কেনা হয়নি।
মধ্যবিত্ত পরিবারে কখনো হুট করে চাইলেই কিছু কিনে ফেলা যায়না, আর এটাই ছিল আমার সাইকেল কেনার ইচ্ছার জন্য তালাবদ্ধ শিকল।
এভাবে কেটে গেলো আরও আট বছর। আমার গ্র্যাজুয়েশন শেষ। দেশের ভালো একটি সফটওয়্যার কোম্পানীতে আমি জুনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (বেতনঃ ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটের বেতন পয়সাতে দেয় টাকাতে দেয়না টাইপ) । ইউনিভার্সিটিতে থাকতে আমাদের কো-অর্ডিনেটর, চেয়ারম্যান স্যার সহ স্টুডেন্ট টিচার্স মিটিং-এ আমরা বহুবার বলেছি আমাদের নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এখান থেকে পাশ করার পরে এখানে শিক্ষকতার বিষয়ে। অবশেষে তা বাস্তবায়ন হলো। এবং কল আসলো আমার কাছে খন্ড কালীন শিক্ষক হিসেবে জয়েন করার জন্য। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার বিষয়টা একদম স্বপ্নের মতো। আমার তখন মাত্র প্রভিশন পিরিয়ড শেষ হলো চাকুরীতে। প্রভিশন পিরিয়ড তিন মাস। অর্থাৎ, তিন মাস মনিটরিং-এ রাখা হয়। আমি ঠিকমত কাজ করছি কিনা, পাংচুয়াল কিনা ইত্যাদি দেখে। মাত্র প্রভিশন পিরিয়ড শেষ হলো, এর মাঝে এখনই এমন একটি অফার। সবকিছু কেমন গোলমেলে।
আমি এবং আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার মাঝে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় সময়। আমার অফিস শুরু সকাল ১০টায়, আর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি নেয়ার মতো ক্লাস টাইম অনলি একটা ৮ঃ৩০ মিনিট থেকে ৯ঃ৫০মিনিট। অর্থাৎ হাতে থাকে ১০ মিনিট। বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস নিতে হবে বনানীতে এবং অফিস নিকেতন(গুলশান)। অফিসে দেড়িতে ঢুকলে সেলারী কাঁটা মাস্ট। এবং আমার তখন যা সেলারী তা দিয়ে নিজের মাসিক হাত খরচই ঠিকমতো চলেনা। তার উপর সেলারী কাঁটা গেলে আমার তখন বাসা থেকে টাকা নিতে হবে। ইউনিভার্সিটি থেকে কল পাওয়ার পরদিনই আমি আমার সুপিরিয়রের সাথে আলোচনা করি। তাকে জানাই আমার বিষয়টি। সে খুব খুশি হয়, এবং আশ্বস্ত করে আমাকে আমি খুব ভালো সুযোগ পেয়েছি। আমি উনার কাছে বলেছিলাম ২০ মিনিট দেড়িতে অফিসে আসতে চাই, এইটা অথরিটিকে কোনোভাবে মানানো যাবে কিনা। উনি অথরিটির কাছে আমার বিষয়টি বললেন এবং উপর থেকে ডিরেক্ট অর্ডার আসলো এটা সম্ভব নয়।

মন খারাপ হয়ে গেলেও হাল ছাড়িনি। রাতে বন্ধু রাফির সাথে বসে বসে কথা বলছিলাম। একটা প্ল্যান বানালাম এবং বন্ধুর সাথে শেয়ার করলাম। আমি একটা সাইকেল কিনবো। অফিসের দূরত্ব ৩.৮ কিলোমিটারের মতো। এই দূরত্ব আমি শুধু মাত্র সাইকেলে পারি দিয়েই অফিস সময়মতো ঢুকতে পারবো। বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কারণ আমি গত ৮ বছর ধরে সাইকেলের সাথে নাই। আদোও ঠিকমতো চালাতে পারবো কিনা, তার উপর সময় হিসেবে করে চালাতে হবে, রিলাক্সে চালালেও একটা কথা ছিল। সাহস করে ইউনিভার্সিটিতে “হ্যা” বলে দিলাম, আর অফিসে আর তেমন কিছু জানাইনি। সাইকেল কেনার জন্য সাইকেল দেখলাম Nekro Zen, দাম পরবে ১৪, ৫০০ টাকা (১৫০০ টাকা ডিস্কাউন্ট চলছিলো তখন)। রাফির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধাঁর চাইলাম। বাসা থেকে বাকি টাকা ধাঁর নিলাম। সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ (শুক্রবার) গিয়ে সাইকেল কিনলাম ধানমন্ডি লায়ন্স সাইকেল স্টোর থেকে, বন্ধু হিমেল (আমার আরেক ক্লোজ ফ্রেন্ড)-কে সাথে নিয়ে গিয়ে। প্ল্যান অনুযায়ী ২৪ শে সেপ্টেম্বর শনিবার দিন দিবো ট্রায়াল রান। শনিবার থেকে বুধবার আমার অফিস ডে। তাই শনিবার দিন অফিস যাতায়াতে আমি একটি ধারণা পাবো সময়ের (কারণ বাসাও বনানী আর বিশ্ববিদ্যালয়ও বনানী)। শুক্রবার দিন সাইকেল কিনে ধানমন্ডি থেকে একাই বনানী (আমার বাসা) ফিরে আসলাম। ত্রিশ মিনিট সময় লাগলো, মনে বেশ খুশি লাগছিলো। পরের দিন ট্রায়াল রান দিলাম, অফিসে গেলাম, সময় লাগলো ১২ মিনিট। এবার ফাইনাল খেলা।

Nekro Zen (2015)

একটি কোর্স পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাহলে সপ্তাহে ২দিন সকালে ক্লাস থাকবে এবং মাসে ৮দিন। সব চিন্তা করে নিলাম, যদি প্ল্যান ওয়ার্কআউট না করে যাতে আমার লসের পরিমান অন্তত কম থাকে। যদিও আমি দুইটি কোর্স নিতে পারতাম অফিসিয়ালি, সেক্ষেত্রে আমার সপ্তাহে ৪দিন সকালে ক্লাস এবং মাসে ১৬ দিন(!) রিস্ক অনেক বেশী হয়ে যায় শুরুতেই। তাই চিন্তা করলাম সপ্তাহে দুইদিনই ঠিক আছে। এই সেমিস্টারে যদি প্ল্যান ওয়ার্ক করে তাহলে পরের সেমিস্টারে দুটি কোর্সই পড়াবো। প্রথম দিন ক্লাসে গেলাম, ঝামেলা বাধলো পার্কিং নিয়ে। সাইকেল কোথায় রাখবো। Nekro Zen কমিউটার বাইক, ওজনে ১১কেজি। যে কেউ নিয়ে হাটা দিতে পারে। দারোয়ানকে বলে ক্লাস নিতে চলে গেলাম। ক্লাস দশ মিনিট আগে ছেড়ে দিলাম। অফিস এসে পৌছলাম ১০ টার আগেই! ১৫ মিনিটের মধ্যে চলে এসেছি! রাস্তায় ট্রাফিক বেশী থাকলে দ্রুত চালানো যায়না, আর একটু পর পর ব্রেক করলে গতি কমে যায়। আমার খুশি আর দেখে কে, প্ল্যান ইজ ওয়ার্কিং। প্রথন দিন দারোয়ানকে বলে কয়ে সাইকেল রেখে ক্লাসে যাওয়ার পরে, দ্বিতীয় দিন ক্লাসে যখন যাবো তখন দারোয়ান রাখতে রাজি হয়না। পরে ইউনিভার্সিটি স্টাফদের ডেকে এনে রাখলাম কোনো রকম। যেই বিল্ডিং-এ ক্লাস নিচ্ছি এটা ইউনিভার্সিটির সম্পুর্ন নিজেদের নেয়া বিল্ডিং নয়, শেয়ার্ড, তাই এতো ঝামেলা। সেদিন ক্লাস নিয়ে অফিসে আসার পরে মাথা গরম। সাইকেল ঠিকমত পার্ক করতে না পারলে শান্তিতে ক্লাস নিতে পারিনা, আবার বাসায় রেখে ভার্সিটি গেলেও আবার বাসা থেকে এসে সাইকেল নিয়ে বের হতে হতে ১০মিনিট এক্সট্রা লেগে যাবে। পরে ইউনিভার্সিটিতে আমার মেন্টর, কোর্স কো-অর্ডিনেটরের কাছে আমি সহযোগিতা চাই। তিনি সহযোগিতা করেন এবং আমি সেন্ট্রাল বিল্ডিং-এ পার্ক করে ক্লাস নিতে লাগলাম। এভাবে এক সেমিস্টার অতিবাহিত হওয়ার পর আমি পরের সেমিস্টারের দুটি কোর্স নিলাম পাশাপাশি রাফি এবং বাসা থেকে নেয়া টাকা শোধ করে দিলাম।
এই নিয়ে ৯ সেমিস্টার পড়ানো শেষ করলাম গতকাল (আলহামদুলিল্লাহ) । ৩ বছর! সেই সময়ের সেই সাহস, কনফিডেন্স, প্ল্যান, আর কেনা সাইকেলটাই আমাকে এতো দূর নিয়ে এসেছে। নতুন চাকুরী ছিল, চাকুরীটা চলে যেতে পারতো। অথবা চাকুরী ধরে রাখতে চাইলে শিক্ষকতার সেই স্বপ্নটাও হয়তো পূরণ হতোনা। আর সাইকেল থাকাতে আমি বিডিসাইক্লিটস জয়েন করতে পেরেছি, পেরেছি #Lokkhojokhonek #300BikeFriday #BDCVictoryDayChallenge সহ #VictoryDayRide #BikeFriday তে অংশগ্রহন করার সুযোগ।
আমার বাংলা বানান ভূল মার্জনীয় দৃষ্টিতে দেখবেন আশাকরি।
সবাই হেলমেট ব্যাবহার করবেন। নিরাপদে সাইক্লিং করবেন। আমার নিজের হেলমেট ছিলনা, ২০১৬ সালেই আমাকে এক বন্ধু ন্যায় ছোট ভাই (পাপিন) একটি হেলমেট দিয়েছে ব্যাবহার করার জন্য, আমি এখনও ওটাই ব্যাবহার করছি, ইনশাআল্লাহ এই মাসে একটা নতুন হেলমেট কিনবো।

শিক্ষকতার ২ বছর!

২০১৬ সালে ক্লাস টেস্ট চলাকালীন সময়ে আমার তৎকালীন ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।

সময়ের মত সময় চলে যায়, পেছনে তাকিয়ে দেখি অনেকটা পথ হাঁটা হয়ে গেছে ।

২০১৬ তে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে ক্লাস নেয়া শুরু করি। সেমিস্টার শেষে অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা লেখাও লিখেছিলাম- ‘লেকচারার হিসেবে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে’ । যাইহোক, ‘শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম ছোটবেলা থেকে, আমার জীবনের একটাই স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবো’, বিষয়গুলো আমার ক্ষেত্রে এমন নয়। কিছু শিক্ষক আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে একটি পর্যায়ে উঠিয়ে এক হাত বাড়ালেন, আমি সেহাত ধরে তাদের কাছে চলে গেলাম। আজ দুই বছর শেষ হয়ে গেলো। অন্যরকম এক অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু, সেটা আগের লেখায় লিখেছি, পুনরায় আর লিখতে চাই না। মূলত অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে লিখতে চাই।

১. শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের শ্রদ্ধা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। সবাই ভাবতে পারে, এতো ইয়াং শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে নেয়। আসল বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের শ্রদ্ধা-সম্মানের কোন কমতিই থাকেনা, বরং ইয়াং শিক্ষক পেলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশী আগ্রহের সহিত পাঠগ্রহনে মনোযোগী হয়।

২. লেকচার দেয়া তূলনামূলক সহজ কাজ (ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে গ্রেনেড বোমার মত প্রশ্নগুলোর কথা বাদ দিলে), কিন্তু প্রশ্ন করা, খাতা ইভালুয়েশন করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ।  নিজে ছাত্র থাকাকালীন কতবার মনে হয়েছে,  এ আর এমন কি কাজ। কেন স্যাররা এতো দেরী করে নম্বর দেয়, কেন নম্বরের যোগে ভূল করে ইত্যাদি। এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি সেগুলো।

৩. আনন্দময় মূহুর্ত ঘটে তখন, যখন আপনার শেখানো কিছু আপনার ছাত্রছাত্রী ভালোভাবে রপ্ত করে তার বহিঃপ্রকাশ করতে পারে। দুঃখের মূহুর্ত, যখন কেউ ব্যার্থ হয়।

৪. কঠিন মূহুর্তঃ শিক্ষার্থীদের কোন টপিক বুঝাতে পারার চেয়ে কঠিন মূহুর্ত হচ্ছে তারা ঠিকমত বুঝেছে কিনা সেটা বুঝার চেষ্টা করা। কারণ তারা হ্যা তে হ্যা মিলায় যেমন, না তে না মিলায় তেমন।

প্রায় ৩৫০+ শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছি এই দুই বছরে। শেখানোর চেষ্টা করেছি অনেক কিছু, বুঝিয়েছিও অনেক কিছু। অনেকেই ভালো করছে, দেখে ভালো লাগে। একজন শিক্ষকের কাছে সফলতাটা এখানেই। আর নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার আরেকটা অন্যরকম আনন্দ আছে, সর্বদা মনের মধ্যে একটা অন্যরকম সেটিসফেকশন কাজ করে যায়।

প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি ডিপার্টমেন্টের স্টাফদের কাছ থেকে। শিক্ষকদের অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। আমিও উনাদের মাঝেরই একজন, এভাবেই রেখেছেন সবাই আমাকে। কিভাবে সময় কেটে গেছে টেরও পাইনি।

শিক্ষার্থীরা তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করেছেন কখনও টিচার্স ইভালুয়েশনে আবার কখনও সরাসরি ক্লাসেই নানা কথা মনোযোগ সহকারে রেস্পন্স করে। আর আমার মেন্টর, ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য শিক্ষকের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ পেয়েছি এই ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশেরই নানা সুতো ধরে।

বামেঃ আমার মেন্টর ও ডিপার্টমেন্ট কো-অর্ডিনেটরের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবং ডানেঃ আমার শিক্ষক ও ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যান স্যারের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

খাগড়াছড়ি, সাজেক, রাঙামাটি, কাপ্তাই ঘুরে আসা । ৪ দিন ৫ রাত

ছুটি পাবো পাবো বলে আগে থেকেই একটা সম্ভাবনা ছিল। কোথাও এবার যেতেই হবে। গত বছর সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়া ঘুরে আসার পরে আর কোথাও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। ছুটি মিলেছে বেশ কয়েকবার কিন্তু কোথাও যাওয়ার সুযোগ আর করে  উঠতে পারিনি। তাই এবার কোথাও না কোথাও যাবো এই সংকল্পে বাঁধা ছিলাম।

একটু বড় ছুটি পেলে পাহাড়ি এলাকা কোথাও বেড়াতে যাবো এটা বেশ অনেক আগের চিন্তা ভাবনা। এবার অফিস থেকে ছুটি মিললো আট দিন! টুক টুক করে গড়ে তোলা হলো ট্রাভেল টীম। যাদের সাথে নিঝুম দ্বীপ ঘুরে এসেছি তারাই সঙ্গী, কিছু রথবদল হয়েছে আর হয়ে সংযোজন। শেষমেষ এগারো জনের দল নিয়ে ৩০শে এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫মিনিটের বাসে করে যাত্রার চিন্তাভাবনা নিয়েই এবারে ভ্রমন শুরু।

ঈগল বাস কাউন্টারে আমরা বাস ছাড়ার অপেক্ষায় (কলাবাগান, ঢাকা)

৩০শে এপ্রিলঃ রাত ৯টা ৪৫মিনিটের বাস, ঈগল পরিবহন, কলাবাগান কাউন্টার। সবাই শার্প ৯টায় চলে এসেছি কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই। একটু ভয় ছিল বৃষ্টি নিয়ে, ঢাকা ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। সকালে-বিকালেও বৃষ্টি ছিল আজ। ভাবনা একটাই ছিল ঘুরতে গিয়ে আবার বৃষ্টি পাই কিনা। যাইহোক, বাসে উঠা পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি। সাথে রেইনকোট সহ পর্যাপ্ত পলিথিন নিয়ে নিয়েছি সবাই। শুরু হলো যাত্রা, গন্তব্য খাগড়াছড়ি। এখন মাথায় চিন্তা ঘুরছে, রাস্তা জ্যাম কেমন পরবে। গত কয়েকদিনের আপডেট থেকে জানলাম ব্যাপক জ্যাম রাস্তায়। কোন প্রকার জ্যাম ছাড়াই কুমিল্লা পর্যন্ত চলে এসেছি, ভেবেছিলাম মেঘনায় জ্যাম হবে কিন্তু কিছুই ছিলোনা। কমবেশী সবাই বাসা থেকে ভাত খেয়ে আসা সত্ত্বেও পরোটা খেয়ে নিলাম ভাজি দিয়ে। আবার যাত্রা শুরু। কিসের বৃষ্টির ভয়! জোছনা দেখছি বাসে জানালা দিকে। আকাশ একদম পরিষ্কার। এবার গিয়ে পরলাম আসল জ্যামে। ফেনী! ৩ ঘন্টা জ্যামের সাথে যুদ্ধ করে তবেই পার হলাম ফেনী।

১লা মেঃ  যখন আলো ফুটতে শুরু করলো তখনি দেখা মেলা শুরু হলো পাহাড়ের। দুইপাশে পাহাড় আর তার মাঝ দিয়ে চকচকে পিচঢালাই করা রাস্তা। আঁকাবাঁকা, কখনও উপরের দিকে উঠছি তো কখনও নিচের দিকে নামছি। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে এসে পৌছলাম খাগড়াছড়ি। বাস থেকে নেমে দেখি আকাশ চকচক করছে রোঁদে, ঢাকায় কি দেখে আসলাম আর এখানে কি! নেমেই আগে সবাই খেলাম ডাবের পানি।

খাঁগড়াছড়ি পৌছেই ক্যালানো সেলফি

চান্দের গাড়ি আগেই বুক করে রেখেছি। বুক না করে আসলেও বুক করা যায়। চান্দের গাড়ি!! নাম শুনলেই মনে চান্দে চলে যেই গাড়ি। আসলে মহিন্দ্র বুলেরো, টাটা ইয়োধা গাড়িগুলো পিছনে ১২জন বসার ব্যাবস্থা নিয়ে এই পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে চলে, ঐগুলোই চান্দের গাড়ি নামে পরিচিত। ড্রাইভারকে ফোন দেয়া শেষ হলে আমরা সকালের নাস্তা করতে বসি। নাস্তা শেষ করতে করতেই চলে এসেছেন ড্রাইভার মিঃ চাপাই। আজ বিকেল পর্যন্ত আমরা খাগড়াছড়ি ঘুরে দেখবো। তারপর বিকেলের এস্কোর্ট নিয়ে যাবো সাজেক। উল্লেখ্য, সাজেক যেতে হলে সকালে অথবা বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে আর্মি  এস্কোর্টের সাথে যেতে হয়, নিরাপত্তাজনিত কারনেই এটা আসলে করা হয়। শুরু হলো খাগড়াছড়ি ঘুরাঘুরি। গেলাম আলুটিলা গুহাতে।

আলুটিলা গুহাতে ঢোকার প্রবেশপথ (ছবিঃ আতিফুর রহমান)

বেশ ঘুটঘুটে অন্ধকার, মশাল নিয়ে যায় সবাই। ১০টাকা করে নেয় মশাল। যদিও ভরসা মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটে, গুহার অপর প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে দেখা যায়, গুহার ভেতর দিয়ে যে পানি আসছে সেটা আর্টিফিশিয়াল, আর গুহার ভেতরটাও বেশ পিচ্ছি এই পানির কারনে।

বান্ধুবী সাথে নিয়ে আসলে এভাবে মাথা টিপে দিতে হয়। (ছবিঃ আতিফুর রহমান)

আলুটিলা গুহা ঘুরে এসে একটা হ্যালিপেডে গেলাম, এখান থেকে বেশ ভালো একটা ভিউ পাওয়া যায়। উঁচু থেকে এমন ভিউ দেখলে আসলে বেশ ভালোই লাগে।

হ্যালিপেডের উপর থেকে খাগড়াছড়ি (ছবিঃ আতিফুর রহমান)

ব্যাম্বো শুট রেস্তোরায় খাবারের মূল্য তালিকা

কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে, ফিরে এলাম আবার আগের জায়গায় যেখান থেকে শুরু হয়েছিলো চান্দের গাড়ীর প্রথম যাত্রা। এখানে ব্যাম্বো শুট নামের একটা রেস্তোরায় লাঞ্চ সেড়ে নিলাম। মাশরুমের ভাঁজি (আমার খেয়ে মনে হয়েছে বেষ্ট খাবার), কাকড়া ভূনা, ডাক কারি, আর ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে নিলাম সবাই। লাঞ্চ শেষে রওনা দিলাম হাজাছড়া ঝর্ণার উদ্দেশ্যে। যেদিকেই ঘুরিফিরি ভালো লাগে। সবদিকেই পাহাড়ি রাস্তা। হাজাছড়া ঝর্ণার কাছে এসে জামা কাপড় বদলে নিলাম। বর্ষা মৌসুমে অথবা বৃষ্টির পর পর আসলে ঝর্ণার সৌন্দর্য্য বেশী উপভোগ করা যায়।

হাজাছড়া ঝর্ণায় ভিজাভিজি

হাজাছড়া ঝর্ণায় ভিজাভিজি

সম্ভবত কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হয়েছে এই দিকে তাই ঝর্ণার পানির প্রবাহ খুব বেশী না হলেও মোটামুটি রয়েছে। পা ভিজাতেই সারা শরীর নাড়া দিয়ে উঠলো। অত্যন্ত ঠান্ডা পানি। এদিক সেদিক দেরী না করে ভিজাভিজি খেলে নিলাম কিছুক্ষন। এই অবস্থায়ই গায়ে কাপড় শুকাতে শুকাতে আর চিল্লাচিল্লি করে গান গাইতে গাইতে চান্দের গাড়িতে করে রওনা দিলাম এস্কোর্টের সাথে। গন্তব্য সাজেক।

চান্দের গাড়িতে

সাজেক ভ্যালী মানুষের কতটা ভালো লাগে জানিনা, তবে সাজেক যাওয়ার রাস্তাটা ব্যাপক। যতটা সুন্দর ততটাই ভয়ংকর। কখনও ৬০ ডিগ্রি নেমে যেতে হয় তো কখনও ৭০ডিগ্রি খাড়া উঠতে হয়। একটু অন্যমনস্ক হলে কাজ শেষ অবস্থা একদম। সত্যিই মনের মধ্যে একটু ভয় কাজ করলেও আনন্দটা উপভোগ করার মত। বিকেল ৫টা ২০মিনিটের দিকে সাজেক গিয়ে পৌছাই। আগে থেকে বুক করে রাখা রিসোর্টে সবাই তরিঘরি করে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে পরে সূর্যাস্ত দেখতে যাবে হ্যালিপেড থেকে। এখানে বেশ কয়েকটা হ্যালিপেড আছে। উপরে বসে থাকতে বেশ ভালো লাগে।

সাজেক হ্যালিপেডের উপরে সূর্যাস্ত (ছবিঃ আতিফুর রহমান)

পুরো সাজেক ভ্যালী আসলে রাঙামাটি রুইলুই পাড়া পাহাড়ের উপরে। যেদিকেই তাকাই সব কিছু এত্তো নীচে দেখা যায়। মেঘের উপরে আছি আমি। মেঘগুলো সব নীচ দিয়ে চলাচল করছে। তাই সাজেককে মেঘের স্বর্গরাজ্যও বলে অনেকে। অন্ধকার নেমে এলে সবাই রিসোর্টে ফিরে এলাম চা খেয়ে। শুরু হলো আড্ডা, কার্ড খেলা। আড্ডা শেষে রাতের ডিনার সেড়ে আবার গন্তব্য হেলিপ্যাড। বলে রাখা ভালো খাবার আগে থেকে অর্ডার করে রাখতে হয়। ব্যাম্বো চিকেন (বাঁশের ভিতরে মুরগী রান্না), ভর্তা, ডাল দিতে ভাত খেয়েছি সবাই। বসে আছি হ্যালিপেডে চাঁদের সাথে মেঘের খেলা, চলছে পোর্টেবল স্পীকারে গান, চলছে আড্ডা, হাসিতামাশা। রাত বেড়ে গেলে চলে আসি আবার রিসোর্টে, এবার একটু বিশ্রামের পালা। এখানে সাজেকের চেয়ে উচু পাহাড়ও আছে, ওটা কংলাক পাড়ায়। আগামীকাল সারাদিন এদিকেই ঘুরবো, তারপর বিকেলের এস্কোর্টে আবার খাগড়াছড়ি চলে যাবো।

২রা মেঃ নাস্তা খেতে হলে সবাইকে অবশ্যই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে। সকাল বলতে সর্বোচ্চ ৯টা। আমাদের অনেকেই সকালে সূর্যোদয় দেখে ঘুমিয়েছে, তাই উঠতে উঠতে বেলা ১০টা। নাস্তা খেলাম লুচি-ডাল, রস পুরী (আটা দিয়ে করা এক ধরনের পিঠার মত, মিষ্টির শিরায় ডুবিয়ে তৈরী করে),  সিঙ্গারা। খাওয়া শেষে তৈরী হয়ে নিলাম। প্রচন্ড রোদ মাথায় চান্দের গাড়ী নিয়ে রওনা দিলাম কংলাক পাড়ার দিকে। বেশ খাড়া পাহাড় প্রায় ৮০ ডিগ্রির চেয়েও বেশী খাড়া হেটে উঠতে হয়। গাড়ি অনেক আগেই আপনাকে নামিয়ে দিবে। ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ একদমই করা হয়না, পাহাড় চড়তে গিয়ে বুঝা যাচ্ছে বেশ। কষ্ট করে যতদূর দেখা যায় উঠলাম, উঠে একটি বাঁক পেরোতেই দেখি, যেটা উঠেছি তার চেয়ে বেশী খাড়া এবং যতটুকু উঠেছি ঠিক অতটূকু জায়গার মতই দূরত্ব আরও উঠতে হবে!! ওহ, নীচ থেকে সবাই ১০টাকা করে বাঁশ নিয়ে এসেছি। বড়ই উপকারি জিনিস। পায়ের উপর প্রেসার কমায়। কোন রকম উঠলাম উপর থেকে। ওয়াও!! এক কথায় ওয়াও! অসম্ভব সুন্দর দেখতে এখান থেকে সব। এখানেও মানুষ বাস করে। উনারা যেভাবে নিজেদের পানি এবং খাবার উপরে নিয়ে আসেন দেখতেই কষ্ট লাগে। একটি বাঁশের শেড করা মাচাতে বসে সবাই বিশ্রামের সহিত উপভোগ করলাম মুহূর্ত ।

কংলাক পাড়ার উপরে

বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে, আমাদের ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে রওনা হতে হবে। আস্তে আস্তে নামা শুরু করলাম। নেমে গিয়ে গাড়ীতে উঠলাম। ফিরে গেলাম রিসোর্টের ওখানে। ফ্রেশ হয়ে তৈরী হয়ে নিলাম একবারে সবাই, খেয়েই রওনা দিবো। সাড়ে ৩টার দিকে এস্কোর্ট ছাড়বে। ব্রয়লার মুরগী, ডাল, শাক, ভাঁজি দিয়ে ভাত খেয়ে নিলাম। মুরগীর রান্নাটা অসাধারণ ছিলো। মুরগী আমার বরাবরের ন্যায় অপছন্দ, আমি যে অফিসে চাকুরী করি ঐখানে সপ্তাহের বলা চলে সাতদিনই মুরগী খাওয়ায়। যাইহোক, খাওয়া শেষে চা খাওয়ার সময় হলোনা তাই চা নিয়েই চান্দের গাড়ীতে সবাই। আবার সেই ৬০ডিগ্রি, ৭০ডিগ্রি উঁচুনিচু রাস্তা পেরিয়ে উপভোগ করতে করতে খাগড়াছড়ি আসতে আসতে সন্ধ্যা প্রায়। এখানে এসে হোটেল নিয়ে নিলাম একটা। আরেক টীম চলে গেলো বাসটার্মিনাল, আগামীকাল সকালে আমাদের গন্তব্য রাঙামাটি। হোটেলে উঠে সবাই ফ্রেশ হয়ে বের হতে হতে আবার দেরী। এইদিকে (খাগড়াছড়ি) ৮টা মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পরে অবস্থা, ৯টা বেজে যাওয়ায় একটু বিপাকে পরতে হলো। অটো নিয়ে শহর অর্ধেক ঘুরে পরে একটা ভাতের হোটেল গেলাম, গিয়ে ভাত খেয়ে নিলাম, ভর্তা, ডাল, গরুর মাংশ, মাছ দিয়ে। খেয়ে হোটেলে ফিরে এসে শুরু আবার আড্ডা। খাগড়াছড়ি শহরটায় রাত একটু আগেই হয়ে যায় মনে হয়। আকাশটা বেশ খারাপ করেছে। বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে, বাতাস বইছে। রাত বেড়ে এলে ঘুমিয়ে পরলাম সবাই, সকাল ৮টা ২৫মিনিটের বাস রাঙামাটি যাওয়ার।

৩রা মেঃ সকাল ৭টা ১৫মিনিটে ঘুম থেকে উঠেই তরিঘরি শুরু সবার। ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি রওনা দিতে দিতে এই লেইট লতিফদের আর নাস্তা করা হয়নাই। গিয়ে বাস ধরতে পেরেছি এইটাই অনেক। এবার যাচ্ছি রাঙামাটি। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। কখনও উঁচু তো আবার কখনও নিচু। বেলা ১২টা নাগাদ আমরা রাঙামাটি পৌছে যাই। নেমেই আগে ফ্রেশ হয়ে কিছু নাস্তা খেয়ে নেই সবাই। এবার নৌকা ভাড়া করতে হবে। আজকের প্ল্যান, নৌকা নিয়ে কাপ্তাই লেকে ঘুড়বো সন্ধ্যা পর্যন্ত। ঝুলন্ত ব্রীজ, ঝর্ণা, এসব দেখতে দেখতে লেকেই কাটাবো সারাটা দিন। কাছেই নৌকা ঘাট। চা খেয়ে হাটা দিলাম ঘাটের দিকে। একইরকম দেখতে অনেক নৌকা, কিছু নৌকার ছাদের উপরেও চেয়ার বসানো আছে বসার জন্য। আমরা ঠিক এমনই একটা নৌকা নিলাম যেটার উপরে বসা যাবে।

যে নৌকায় ঘুরাঘুরি কাপ্তাই লেকে

নৌকা ভাড়া করার পর, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিলাম। নিয়ে যাত্রা শুরু। বড় বড় পাহাড়, তার মাঝে দিয়ে বয়ে চলা লেক। কাপ্তাই লেকের কথা শুনেছি ছোটকালেই কিন্তু আসা হয়নি। অন্যরকম সুন্দর। আঁকাবাঁকা লেকের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা আমাদের নৌকা।

কাপ্তাই লেকে নৌকায় ঘুরাঘুরি (ছবিঃ আতিফুর রহমান)

ঝুলন্ত ব্রীজ দেখে শুভলং ঝর্নায় গেলাম, পানি নেই। মাঝখানে একটা পাহাড়ে থামালো, এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে নেয়া যায়। রেস্তোরার নাম “প্যাদা টিং টিং” । দুপুরে খাওয়ার তেমন ইচ্ছে নেই, তবে কেউ চাইলে এখানেও পাহাড়ি খাবার খেয়ে নিতে পারে, যেমনঃ ব্যাম্বো চিকেন ইত্যাদি। আমার বান্ধুবীর ব্যাঙ খাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো, পায় নাই। বড় বড় ডাব দেখে আর নিজেদের সামলাতে পারিনাই। ৩০টাকা থেকে ৫০টাকা পর্যন্ত দাম। ইচ্ছেমত ডাব খেয়ে নিলাম সবাই। আবার নৌকায় উঠে পরলাম। জিজ্ঞাসা করলাম আশেপাশে পানি পরে এমন ঝর্ণা নেই, ওখানে নিয়ে যান। নিয়ে গেলো একটা ঝর্ণা কাছে, কি আর বলবো ক্যামন যে পানি পরে। আকাশ বেশ মেঘলা।

মেঘলা আকাশ (ছবিঃ নুসরাত)

শুরু হলো হালকা বৃষ্টি। আমরা একটা পাহাড়ে চড়ছিলাম, নেমে গেলাম তাড়াতাড়ি, নামতে গিয়েও বিপদ, আমাদের কয়েকজন জানে বেঁচে গেছে পড়তে পড়তে। বৃষ্টি থেমে গেলো, ভেজা শরীরে বাতাস খেতে খেতে রওনা দিলাম। একটা টেম্পল পরে মাঝপথে, যেতে আসতে উভয় সময়ই, বুদ্ধদের মন্দির।

বুদ্ধ মন্দির (ছবিঃ আতিফুর রহমান)

এখানে নেমে ফ্রেশ হয়ে নিলো সবাই, চা খেয়ে নিলাম, লিচু কিনলাম ১০০টাকায় ১শ। লিচু খেতে খেতে আবার নৌকা ঘাটে ফেরার পালা। মাঝপথে সূর্যাস্ত দেখা জন্য ১০ মিনিটের বিরতি (ইঞ্জিন বন্ধ)। কোথাও কোন শব্দ নেই, মাঝে মাঝে পাখিদের শব্দ শুনতে পাই।

কাপ্তাই লেকে সূর্যাস্ত

নৌকা ঘাটে পৌছে তাড়াতাড়ি রওনা দিলাম বাস স্ট্যান্ডের দিকে, ততক্ষনে ৭টা বাজলো বলে। দেরী হলে আর চট্টগ্রাম যাওয়ার বাস পাওয়া যাবেনা। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য চট্টগ্রাম, ওখানে রাতে থাকবো। ঠিকই দেরী হয়ে গেছে, সর্বশেষ গাড়িগুলো পেলেও, ১০জনের সীট আর পাওয়া গেলোনা। পরে সি.এন.জি করে ভেদভেদী বাজার গেলাম। ওখান থেকে সি.এন.জিতে করে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে। ৮০০টাকা করে পরে একেকটা সি.এন.জি। নিয়ে নিলাম ২টা সি.এন.জি। এসে যখন চট্টগ্রাম পৌছলাম তখন রাত ১০টা বেজে গেছে। এখান থেকে পুরাতন রেলস্টেশন যাবো, ঐখানে হোটেল এভেইলেভিলিটি বেশী। হোটেলে গিয়ে চেক-ইন করতে করতে ১১টা ৩০ বেজে গেছে। ফ্রেশ হয়ে বের হলাম সবাই, রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। তারপর হোটেলে ফিরে ঘুম, আগামী সকালে গন্তব্য কাপ্তাই। কর্ণফুলী নদীতে কায়াকিং করবো।

৪ঠা মেঃ বেশ কাহিল সবাই। উঠতে উঠতেই সকাল ১০টা। রাতে আড্ডা দেয়া হয়েছে অনেক রাত পর্যন্ত, তাই বিশ্রাম না নিয়ে সকালে বের হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাই দেরী করে উঠা। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে গেলাম আমরা। ৫জন যাবো কাপ্তাই আর ৫জন ঘুরবে চট্টগ্রাম। আমি কাপ্তাই টিমের সাথে। নাস্তা শেষে রওনা দিলাম ১২টার আগে দিয়ে। এখানে থেকে লোকাল বাসে করে বহদ্দার হাট যাচ্ছি, ভাড়া ১০টাকা জনপ্রতি। চট্টগ্রাম শহর আর আগের মত নেই। প্রচুর জ্যাম, রাস্তার কাজের জন্য আরও বাজে অবস্থা। ১২টা ৪৫এর দিকে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল পৌছলাম, এখান থেকে কাপ্তাই-এর বাস যায়। “কাপ্তাই জুম রেস্তোরা” – বললে নামিয়ে দিবে, ভাড়া ৬৫টাকা জনপ্রতি।

জুম রেস্তোরা (ছবিঃ নুসরাত)

বেলা তিনটার দিকে পৌছলাম জুম রেস্তোরায়, গিয়ে পুরো বিপাকে। আজ শুক্রবার দিন। কায়াক বোট পাওয়াই যাচ্ছেনা। একটা কায়াক বোটে ২জন বসতে পারে। আমরা ৫জন, আমাদের তিনটা বোট লাগবে। ৪টা ৩০ এর দিকে ২টা বোট পেলাম। ১ঘন্টা ২০০টাকা করে প্রতি বোট, আর রেস্তোরায় ঢুকতে ২০টাকা। আমাদের একজন অপেক্ষমান রইলো। বিশাল উঁচু পাহাড়ের মাঝদিয়ে কর্ণফুলী নদী, তার উপর আপনি বসে আছেন একদম পানির লেভেলে।

কায়াকিং (ছবিঃ নুসরাত)

বৈঠা দিয়ে পানিতে ধাক্কা দিতেই সাই সাঁই চলে কায়াক বোট। লাইফ জ্যাকেট পরে নিয়েছি। এইসব বোট উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক। আকাশ মেঘলা, আপনার সবদিকে পাহাড়, মাঝখানে কায়াক বোটে বসে একটু একটু করে আগাচ্ছে, বেশ চমৎকার অনুভুতি। ফিরে আসলাম সহি সালাহ মতেই।

কায়াকিং (ছবিঃ নুসরাত)

জুম রেস্তোরার ভেতর বসে আছি, নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। নাস্তা অর্ডার করলাম। আমাদের আবার একটু তাড়াও আছে, ৬টা অলরেডি বাজে। আমাদের আজ রাত ১১টায় ঢাকা ফিরার ট্রেন। ৬টা ৩০ এর দিকে নাস্তা শেষ করে লোকাল সি.এন.জিতে করে লিচু বাগান গেলাম ২০টাকা জনপ্রতি। ঐখান থেকে জনপ্রতি ৭০টাকা করে নিবে চট্টগ্রাম কাপ্তাই রাস্তার মাথা (এইটা একটা জায়গার নাম) । সি.এন.জি নেয়ার উদ্দেশ্য একটু তাড়াতাড়ি যাওয়া। গতকালের মতই জার্নি। ৮টার কিছুক্ষন পরে এসে পৌছলাম কাপ্তাই রাস্তার মাথায়। এখান থেকে আবার লোকাল বাসে জার্নি করবো, রেলস্টেশন যেতে হবে। এইবার ঠিকমত জ্যামে পরলাম, রেলস্টেশন পৌছতে পৌছতে আমাদের ৯টা ৩০এর উপরে বেজে গেছে। গিয়েই রাতের খাবার খেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আমাদের বাকী টিম মেম্বারদের সাথে দেখা করে সবাই ট্রেনে উঠে পরলাম। ১১টায় ট্রেন ছেড়ে দিলো। ট্রেনের সীটে বসেই সবাই ঘুম। রাত জেগে ব্যাগ পাহারা দিলাম। যেকোন ট্যুর থেকে ফিরতেই আমার বেশ খারাপ লাগে। মনে পরে যায়, আবার সেই ঢাকা ফিরে যাচ্ছি, আবার সেই কাজকর্ম আমার। আবার ব্যাস্ত হয়ে যাওয়া। সকাল ৫টা নাগাদ পৌছলাম ঢাকা। সবাইকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। একটু ঘুমিয়ে আবার অফিসে চলে গেলাম।

 

মনে রাখার মুহূর্তঃ 

১. যখন প্রথম ঢুকি খাগড়াছড়ি বাসে করে, বাসের সেই টার্ন নেয়া গুলো।

২. যখন সাজেকে রাতে হ্যালিপেডে বসে আকাশে মেঘে আর চাঁদের খেলা দেখি।

৩. সাজেকের রাস্তায় সেই খাঁড়া পাহাড় বেয়ে গাড়ির উঠানামা।

৪. কংলাক পাহাড় বেয়ে উঠা।

৫. খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটির সেই রাস্তা।

৬. নৌকায় করে কাপ্তাই ঘুরাঘুরি। বিশেষ করে সেই ১০মিনিটের স্তব্ধতা।

৭. অনন্তকালের সি.এন.জি জার্নি। যেন চলছে তো চলছেই। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায়।

৮. কর্ণফুলী নদীতে কাটানো কায়াকিং-এ এক ঘন্টা।

৯. ট্রেনে রাত জেগে ঠান্ডা বাতাসে চাঁদ দেখা।

 

আইপিভিশনে ২ বছর!

কিছুদিন আগেই মনে হয় লিখাটা লিখলাম “আইপিভিশনে এক বছর”  আর এখনই ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আবার “আইপিভিশনে ২ বছর!” লিখতে শুরু করলাম মনে হচ্ছে। সময় বেশ দ্রুত চলে যাচ্ছে।

বেশ ক্লান্ত আমি, তারপরেও কিছু না কিছু তো লিখতেই হয়। আনন্দ-বেদনা সবকিছু নিয়েই কেটেছে পরের বছরটি। এটাও আমার পরিবার। ঘুমের বাইরে নিজের হাতে যতটুকু সময় থাকে তার বড় অংশটা আমি এখানেই কাটাই। ধন্যবাদ আইপিভিশন-কে, তাদের জন্য এখনও নামের পাশে ডেসিগনেশনে  লিখতে পারি ‘সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার’, তার চেয়ে বেশী ধন্যবাদ আমার সহকর্মীদের। এই রকম সহকর্মী না থাকলে আসলে এভাবে দুই বছর এক জায়গায় কাজ করা সম্ভব হতোনা। ব্যাক্তিগত সমস্যা, কাজ জনিত সমস্যা থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে সহযোগিতা পেয়েছি সবার কাছে, সাথে পেয়েছি অনেক অনেক অনুপ্রেরণা। আনন্দের মুহূর্ত অনেক, কষ্টের মুহূর্তও কম নয়। সমবয়সী বেশীরভাগই অন্য কোথাও চলে গিয়েছে, কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আগে অনেকটাই মনে হতো ইউনিভার্সিটিতে আছি, এখন অবশ্য বুড়োদের মাঝে নিজেকে অনেক ছোট টাইপ মনে হয় মাঝে মাঝে। অনেক অনুভব করি আমার সমবয়সী সহকর্মীদের। সাথে সাথে তাদেরও (সিনিয়র) অনুভব করি যারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন আজকের এই জায়গায় আসতে, কিন্তু আজ আমার  সাথে এক কোম্পানীতে নেই।

দেড় শতাধিকেরও বেশী ইঞ্জিনিয়ার একসাথে বসে কাজ করা, একই ফ্লোরে! ব্যাপারটা অবশ্যই ভয়ংকর সুন্দর। এইচআর থেকে শুরু করে দাড়োয়ান পর্যন্ত সবার চেহারায়ই হাসি দেখি সবসময়। ভালো লাগে অনেক। সবাই সবাইকে চিনে রাখার চেষ্টা করা, খোজ খবর রাখা ব্যাপারগুলো আসলেই বেশ অন্যরকম। আসলে ছোট ছোট অনেকগুলো ভালো লাগা সাথে না থাকলে হয়তো এতোদিন এক জায়গায় টিকেও থাকতে পারতাম না এভাবে।

আজ নিজের একটা প্রোফাইল আছে, অনেক কিছুই লিখে রেখেছি ওখানে। এইগুলোতে এই দুই বছরের অভিজ্ঞতার অনেক অবদান রয়েছে। অনেক কিছুর নাম লিখি, আলোচনা করি গল্পে গল্পে, এখানে না আসলে হয়তো ঐগুলো জানা হতোনা। যখন চা-এর কাপে চুমুক দিতে দিতে টং দোকানে টেকনোলজি নিয়ে ঝড় তুলে ফেলি, তখন অনেকেই তাকিয়ে দেখে, পাগল ভাবে। এখানে না আসলে হয়তো আমিও কোন টং দোকানে দাঁড়িয়ে থেকে এইসব শুনে তাদের পাগল বলেই বাসায় চলে আসতাম।

Big Data (Part – 2)

“Data is a precious thing because they last longer than systems” – Tim Berners Lee

In a short, Big Data term can be defined with 3V’s. Those are Volume, Velocity and Variety.

Volume: Now-a-days data is growing exponentially. This is very common to have terabytes, petabytes data. This big volume of data represents Big Data.

Velocity: There are several types of data transaction. Such as, real time data transaction, near to real time data transaction, periodical data transaction, batch data transaction. This high velocity of data represents Big Data.

Variety: We have data variety. From our previous article we have seen already about this. We have structured, semi structured, unstructured data, sensor data, log data, image, audio, video and many more. This is a real world challenge to manage these data. This massive level variety of data represents Big Data.

Why we think Big Data is hard?

Store: What if your computer can store only 1TB of data, but you need to store 1PB (1000 TB) of data?

Move: Assume that, you have 10Gb Network which takes 2 hours to copy 1TB or 83 days to copy 1PB, what if you need to move these data?

Search: Assume that, each of your record size is 1KB and your one machine can process 1000 records per second, so it needs 277 CPU days to process 1TB and 785 CPU years to process 1PB records!

 

Big Data (Part – 1)

Big Data

Big Data is a very popular topic within the information technology industry now-a-days. This is very common that people often think “Large volume of data sets are known as Big Data”. Yes, it is a term which describes a large volume of data but this only line can not define entire Big Data term. So, we will learn today , What is Big Data?

There are three types of data, Structured, Semi Structured and Unstructured.

Structured: Most of we are familiar with Structured data. Structured data can be stored in SQL database in table with row and columns. They have relational key and easy to map with a pre-designed field. Structured data is highly organized and easy to manage with RDB (Relational Database).

Semi structured: Semi structured data doesn’t reside in a relational database but they have some organizational properties that make it easier to analyze. XML, JSON documents are semi structured data.

Unstructured: Unstructured data is everything else except Structured and Semi structured data. Today more than 80% of the data generated is unstructured. According to the source of IDC (2014), size of unstructured data shipped around 80 Exabyte (EB).

“Big data is an evolving term that describes any voluminous amount of structured, semi structured and unstructured data that has the potential to be mined for information.”