
⚠️⚠️⚠️🚵♂️🚵♂️🚵♂️ ⚠️⚠️⚠️
প্রচুর মানুষ এখন প্রয়োজনের তাগিদে হোক অথবা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের সাথে সাইক্লিং-এ যুক্ত হচ্ছেন। অনেকে একদমই নতুন, কেউ কেউ তো এই মাত্র সাইকেল চালানো শিখেছেন, আবার কেউ আছেন ১০ থেকে ১৫ বছর পরে এসে আবার সাইক্লিং শুরু করছেন। যদি এই মানুষটি আপনি নিজে হোন অথবা আপনার পরিচিত কেউ এমন হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদের কাছে আমার কিছু অনুরোধঃ
১। দয়া করে নিজ দায়িত্বে একটা হেলমেট কিনে নিবেন । হেলমেট কয়েকশত টাকা দিয়ে পাওয়া যায়, আবার কয়েক হাজার টাকারও হেলমেট আছে, ব্র্যান্ডের হেলমেটও আছে আবার নন ব্র্যান্ডেরও। মূলত কোয়ালিটির উপর ভিত্তি করে দামের তারতম্য হয়। যেমন ধরুন, একদম নরমাল কোয়ালিটির একটি হেলমেটে লো-স্পীড (ধরুন ৮-১০ কিলোঃ / ঘণ্টা)-এ যদি আপনার মাথা কোথাও ইমপ্যাক্ট হয়, তাতে বেঁচে যাবেন, কিন্তু এর চেয়ে বেশী গতি যদি হয় তাহলে হেলমেটটি হয়তো আপনাকে রক্ষা করতে পারবেনা। প্রয়োজন অনুযায়ী কেমন হেলমেট কিনবেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করবে।
২। যারা অফিস অথবা ব্যাক্তিগত কাজে সন্ধ্যার পরেও বাইরে সাইক্লিং করবেন, তারা দয়া করে ফ্রন্ট লাইট এবং টেইল লাইট কিনে নিবেন। দাম খুব বেশী হয়না, তিন থেকে পাঁচশত টাকার মধ্যে কাজ হয়ে যাবে, আবার কেউ চাইলে আরও ভালো কোয়ালিটির আরও দামি লাইট কিনতে পারেন। ফ্রন্ট লাইট মূলত রাস্তায় থাকা কোন গর্ত, ভাঙ্গা জায়গা, ইট পাথর এবং অন্যান্য ক্ষতির হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে। আর টেইল লাইট মূলত পিছন থেকে আসা যানবাহনের জন্য। চেষ্টা করবেন টেইল লাইটটি একটু ডাউন এংগেল করে বসাতে, যেন পিছন থেকে আসা যানবাহনের চালকের চোখে সরাসরি না পরে। পিছন থেকে আসা কোন যানবাহন যেন অসতর্ক ভাবে আপনাকে ধাক্কা না দিতে পারে সে জন্য এই টেইল লাইট খুবই জরুরী।
৩। হ্যান্ড গ্লভস কিনে নিতে পারেন। সাইকেল থেকে অনেক সময় কোন কারণ ছাড়াই ব্যালেন্স হারিয়ে পরে যেতে পারেন, সেক্ষেত্রে হাতের তালু, আঙ্গুলে ব্যাথা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুই-তিন শত টাকাতেই কাজ হয়ে যাবে। আপনার সামর্থ্য থাকলে আরও দামী কিনতে পারেন।
৪। অবশ্যই ভালো মানের একটি লক কিনে নিবেন। কোন লকই আপনার সাইকেলকে শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারবেনা, তবুও যত ভালো লক ব্যাবহার করবেন চোরের কনফিডেন্স ততো কমবে, এবং চুরি হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। এসএস শিকল ৮মিমিঃ অথবা ১০মিমিঃ, সাথে মোবাজ তালা। এক হাজারে মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, যদি আপনার সাইকেলের দাম দশ হাজার টাকাও হয়ে থাকে এই এক হাজার টাকার লক সিস্টেমই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে আপনার পছন্দের সাইকেলটি চুরি হয়ে যাওয়া থেকে। দারোয়ানের অপর অন্ধ বিশ্বাস করে আসলে খুব বেশী একটা লাভ নেই।
৫। হর্ন কিনে নিতে পারেন। ব্যাস্ত শহরে হর্ণ অনেক উপকারী, যদিও এতো শব্দ দূষণের মাঝে আপনার হর্ণ মানুষ তেমন একটা কানে নিবেনা। তারপরেও হর্ণ উপকারী। হর্ন অনেকে আলাদাভাবে কিনে, আবার ফ্রন্ট লাইটের সাথে কম্বাইন্ড হর্নও পাওয়া যায়। কম্বাইন্ডটা তিন থেকে পাঁচশত টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।
৬। যারা শহরে অথবা ব্যাস্ত রাস্তায় সাইক্লিং করবেন, দয়া করে ডানে বামে প্রতিনিয়ত নজর রাখার চেষ্টা করবেন। হুট করে ডানে অথবা বামে চলে যাবেন না, হঠাৎ করে লেন পরিবর্তন করবেন না এবং রাস্তা পারাপারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন। সাইক্লিং-এ আমরা কিছু নির্দেশনা ব্যাবহার করি, সেগুলো আপনি গুগলে পেয়ে যাবেন। আর যদি জানা না থেকে থাকে, তাহলে ডানে যাওয়ার সময় ডান হাত এবং বামে যাওয়ার সময় বাম হাত দিয়ে পিছনের যানবাহনকে নির্দেশনা দিলেও চলবে।
৭। প্রতিদিন না পারলেও সপ্তাহে একদিন সাইকেলটি ভালো করে মুছে পরিষ্কার করে রাখুন এবং বৃষ্টিতে ভিজলে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে, চেইন ল্যুব দিয়ে রাখুন। চেইন ল্যুব একবার কিনে নিলে অনেকদিন যায়। দুই তিনশত টাকা নিতে পারে মাঝারি সাইজের বোতল।
৮। সন্ধ্যার পর সাইক্লিং-এ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। যেমনঃ ঢাকা এয়ারপোর্ট রোড দিয়ে সন্ধ্যার পর একা চলাচল না করাই উত্তম।
৯। শুষ্ক মৌসুমে, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এবং সম্ভব হলে প্রতিবার সাইক্লিং শেষে জামাকাপড় বদলে নিন। আর বর্ষা মৌসুমে সাথে জিপব্যাগ/রেইনকোট রাখার চেষ্টা করুন, এইগুলো আপনার মোবাইল-মানিব্যাগ, অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাঁচাতে সহযোগিতা করবে।
১০। যারা লম্বা রাস্তায় (প্রতিদিন অনেক দূর যাওয়া-আসা) সাইক্লিং করবেন, তারা মিনিপাম্পার (এক হাজার টাকার মধ্যেই) এবং প্যাচ কিট (টিউব লিক সারানোর জন্য) সাথে রাখতে পারেন। ভোগান্তি কমবে।
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সাইকেল কেনার সময় আমাদের হাতে এক্সেসরিজ কেনার টাকা থাকেনা হাতে, সেক্ষেত্রে একসাথে সব না কিনে আস্তে আস্তেও কিনে নিতে পারেন। তবে কোনটা কেন প্রয়োজন তা আপনারা এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা। আপনারা যারা একদম নতুন, তারও হয়তো উপরোক্ত বিষয়গুলো অনেকেই জানেন, আমি শুধু একবার মনে করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম। কোনকিছু ভুল লিখে থাকলে হয়তো শেখার সুযোগও পাবো আপনাদের কাছ থেকে, আর কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় যদি বাদ পরে থাকে তাও আপনাদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারবো।
সাইক্লিং কমিউনিটিতে যোগ দিতে চাইলে, নিম্নোক্ত গ্রুপে যোগ দিন-
সাইক্লিং সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা থেকে থাকলে, নিম্নোক্ত গ্রুপে প্রশ্ন করুন-
দ্রষ্টব্য-১ঃ করোনা মহামারীর এই সময়ে অনুগ্রহ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরতে থেকে বের হবেন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া থেকে বিরত থাকি।
দ্রষ্টব্য-২ঃ ছবির হেলমেটটি আমার উপহারে পাওয়া, তাই সঠিক দাম আমার জানা নেই। তবে দাম ২৫০০ টাকার আশেপাশে। Brand: CAIRBULL, Model: WYX-ZHCL11.
ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করবেন।
ধন্যবাদ।
// Happy Cycling ❤


